Breaking News
recent

মাহে রমযান : তাৎপর্য ও কর্তব্য পর্ব-২



এদিকে রমযান মাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে সৌর পঞ্জিকার স্থলে চন্দ্র পঞ্জিকা গ্রহণ করা হয়েছে এর সুবিধা হলো, সৌর হিসেবে মৌসুমের পরিবর্তন ঋতুর পালাবদল হয় না তেমনি এর দিন-রাতের আকারেও বিশেষ কোনো পরিবর্তন বা ব্যত্যয় দেখা যায় না তাই যদি সৌরবর্ষের হিসেবে সাওম পালন করতে হত, তখন যদি কোনো দেশে গ্রীষ্মকালে সাওম পালন করা হত, তাহলে সেখানে সর্বদাই রমযান আসত গ্রীষ্মকালে আর কোথাও শীতকালে রমযান হলে সবসময় শীতকালেই রমযান আসতো পক্ষান্তরে চন্দ্রমাস এর ব্যতিক্রম এর মৌসুম বছরে বছরে বদলাতে থাকে আর দিন-রাতের আয়তনও কম-বেশি হয় এভাবে সাওমের মাস প্রতি দেশে বছর ভেদে প্রতি ঋতুতেই আগমন করে ফলে সবাই এর মিঠে-কড়া উভয় রূপই উপভোগ করতে পারে গ্রীষ্ম, বর্ষা শীত কিংবা বড় আকারের দিন ছোট আকারের দিন প্রভৃতি সব রকম অবস্থার সম্মুখীন হতে পারে

ইসলাম ধর্মে সিয়াম সাধনার বিধান রাখা হয়েছে আল্লাহভীতি সৃষ্টি তাকওয়া চর্চার উদ্দেশে কুরআন কারীমে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করা হয়েছে- সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ [البقرة: 183].
হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর {সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩

আর তাকওয়া হলো মনের ওই অবস্থা যার প্রেরণায় পাপের প্রতি মানুষের প্রচণ্ড বিরাগ পুণ্যের প্রতি প্রবল অনুরাগ সৃষ্টি হয় যেহেতু পশুসূলভ প্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ সাধারণত দুর্বল কমজোর হয়ে পড়ে, তাই রমযানে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে স্বতস্ফূর্তভাবে তাকওয়ার হালত বা আল্লাহভীতির অবস্থা তৈরি হয়ে যায়
 
ছাড়া রমযানুল মুবারকে তারাবীহর সালাতের সৌজন্যে আল-কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াত বেড়ে যায় সাওম পালনের উদ্দেশ্যে অভুক্ত থাকার প্রভাবে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা কল্যাণকামিতার মানসিকতা প্রবল হয় সাওম নিছক উপবাসের মধ্যে ব্যবধান তৈরির মানসে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে জামাআতের াথে সালাত আদায় পুরুষদের এবং মুস্তাহাব ওয়াক্তে উত্তমরূপে সালাত আদায় মহিলাদের প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় যিকর-ফিকর, আল্লাহর ইয়াদ তাসবীহ-তাহলীল, তাওবা ইস্তিগফার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ এবং কুরআন তেলাওয়াতের সাথে সাথে যদি মরণ, কবর জীবন পরকালের অবশ্যম্ভাবী অবস্থাদির কথাও স্মরণ করা হয় তবে তো সোনায় সোহাগা
 
সিনাই পর্বতে তাওরাত আনতে গিয়ে নবী মুসা আলাইহিস সালাম চল্লিশদিন পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত ছিলেন সায়ির পর্বতে হযরত ঈসার আলাইহিস সালাের ওপর যখন ইনজিল নাযিল হয়, তার আগে তিনিও চল্লিশদিন পর্যন্ত সাওম অবস্থায় কাটান
 
তেমনি পবিত্র কুরআন নাযিলের প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরার নির্জন গুহায় পুরো একমাস বিশেষভাবে ইবাদতে লিপ্ত থাকেন অবশেষে সেখানেই সূরা আলাকের শুরুর আয়াতগুলো নাযিল হয় রহমাতুল্লিল আলামীনের ঘটনাটিও সংঘটিত হয়েছে হয়েছে রমযান মাসে পবিত্র কুরআনে যেমন ইরশাদ হয়েছে,
﴿شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِۚ﴾ [البقرة: 185]
রমযান হলো সেই মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন, আর ন্যায়-অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী {সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৮৫}
 
Md Abu Raihan Siddik

Md Abu Raihan Siddik

No comments:

Post a Comment

Powered by Blogger.